ময়নাগুড়ি, ১৯ জুলাই:
গভীর রাতে জাতীয় সড়কে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক লরি চালক। আম ভর্তি একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে নয়ানজুলিতে উল্টে গেলে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চালকের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমহানি মরিচবাড়ি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ জাতীয় সড়ক দিয়ে উত্তর প্রদেশ থেকে আসামের উদ্দেশে একটি আম বোঝাই লরি যাচ্ছিল। দোমহানি মরিচবাড়ি এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি রাস্তার ধারে নয়ানজুলিতে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে, লরির চালক গাড়ির নিচে চাপা পড়েন এবং গুরুতর জখম হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় ময়নাগুড়ি থানার পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর লরির নিচে চাপা পড়ে থাকা চালককে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
লরির সহচালকের দাবি, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ি তাদের লরিতে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং লরিটি রাস্তার ধারে নয়ানজুলিতে উল্টে যায়। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর ওই গাড়িটি না থেমেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সহচালক অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
দুর্ঘটনার ফলে লরিতে থাকা বিপুল পরিমাণ আম ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার ধারে। কিছু সময়ের জন্য ওই এলাকায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরিটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সহচালকের বক্তব্যের ভিত্তিতে পলাতক গাড়িটির সন্ধান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত চালকের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জাতীয় সড়কে ফের এক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের দাবি, গভীর রাতে অতিরিক্ত গতিতে চলা ভারী যানবাহনের উপর আরও কড়া নজরদারি এবং নিয়মিত ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।

